বাংলাদেশে অনেক ক্রেতা অচেনা দোকানে আগে টাকা দিতে ভরসা পান না। পণ্য হাতে পেয়ে দাম দেওয়ার সুবিধা তাই বিক্রি বাড়ানোর একটি শক্তিশালী উপায়।
অন্যদিকে ক্রেতা না নিলে পণ্য ফেরত আসে, কুরিয়ারের খরচ আপনার ঘাড়ে পড়ে। তাই COD রাখা বা না রাখা নয়, সিদ্ধান্তটি হলো কীভাবে রাখবেন।
বাংলাদেশে ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) ক্রেতার আস্থা বাড়ায় এবং বিক্রি আনে, কিন্তু ফেরত অর্ডারের ঝুঁকিও বাড়ায়। অর্ডার ফোনে নিশ্চিত করে, আংশিক অগ্রিম নিয়ে এবং ফেরতের হিসাব রেখে COD চালু করুন।
COD-এর সুবিধা
নতুন দোকানের জন্য COD আস্থার বড় সেতু। যাদের বিকাশ বা কার্ড নেই বা ব্যবহারে অভ্যস্ত নন, তারাও কিনতে পারেন। চেকআউটে পেমেন্টের ধাপ কম থাকায় কনভার্সনও বাড়ে।
- অচেনা দোকানের প্রতি ক্রেতার ভয় কমে।
- অনলাইন পেমেন্ট ব্যবহার না করা ক্রেতারাও কিনতে পারেন।
- চেকআউট সহজ হওয়ায় অর্ডার বাড়ে।
ঝুঁকি ও খরচ
কিছু ক্রেতা অর্ডার করে ফোন ধরেন না বা পণ্য নিতে অস্বীকার করেন। তখন আপনি যাওয়া ও ফেরার দুই দিকের কুরিয়ার খরচ বহন করেন এবং পণ্যও কিছুদিন আটকে থাকে। কুরিয়ার সংগৃহীত টাকা আপনাকে দিতে কয়েকদিন সময় নেয়, তাই নগদ প্রবাহেও চাপ পড়ে।
আপনার ফেরত হার কত তা মেপে দেখুন। এই হারই ঠিক করবে COD লাভজনক কি না।
ঝুঁকি কমানোর উপায়
অর্ডারের পর ফোন বা এসএমএসে নিশ্চিত করুন, নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পাঠাবেন না। দামি পণ্যে ডেলিভারি চার্জ বা আংশিক টাকা আগে বিকাশে নিলে ক্রেতা গুরুত্ব দিয়ে অর্ডার করেন।
- অর্ডার নিশ্চিত করার কল বা এসএমএস।
- ডেলিভারি চার্জ আগাম নেওয়া, বাকিটা ডেলিভারির সময়।
- বারবার ফেরত দেওয়া নম্বরে COD বন্ধ রাখা।
- বেশি অঙ্কের অর্ডারে শুধু অনলাইন পেমেন্ট চালু রাখা।
ধীরে ধীরে অনলাইন পেমেন্টে সরান
অনলাইন পেমেন্টে সামান্য ছাড় বা ফ্রি ডেলিভারি দিলে ক্রেতারা ধীরে ধীরে সেদিকে আসেন। এতে ফেরত অর্ডার কমে এবং টাকা দ্রুত হাতে আসে। COD পুরো বন্ধ না করে বিকল্প হিসেবে রাখুন।