বিডিজবসের মতো বড় পোর্টালের সাথে সরাসরি পাল্লা দেওয়া কঠিন। কিন্তু নির্দিষ্ট একটি পরিসরে জব বোর্ড বেশ কাজের হতে পারে: শুধু আইটি ইন্টার্নশিপ, শুধু রেস্টুরেন্ট কর্মী, শুধু চট্টগ্রামের গার্মেন্টস, কিংবা প্রবাসে কাজের সুযোগ। নির্দিষ্ট পরিসরে চাকরিদাতা আর প্রার্থী দুজনই সহজে খুঁজে পান।
পুরো বিষয়টি দুই দিকের: একদিকে প্রার্থী চাকরি খোঁজে ও আবেদন করে, অন্যদিকে নিয়োগকর্তা চাকরি দেয় ও আবেদন দেখে। দুটিকেই চ্যাটে বর্ণনা করে বানানো যায়।
একটি নির্দিষ্ট বিষয় বা এলাকা বেছে নিন, চাকরির তালিকা, সার্চ-ফিল্টার, আবেদন ও নিয়োগকর্তার ড্যাশবোর্ড প্রম্পটে বর্ণনা করুন, প্রিভিউতে পুরো আবেদনের ধাপ পরীক্ষা করে পাবলিশ করুন।
প্রথম সংস্করণের পরিসর ঠিক করুন
ছোট কিন্তু শক্ত শুরু করুন। শুরুতেই সবকিছু চাইলে কিছুই শেষ হয় না।
- প্রার্থীর দিক: চাকরির তালিকা, সার্চ, শহর, ক্যাটাগরি ও ধরন (ফুলটাইম, পার্টটাইম, ইন্টার্ন) অনুযায়ী ফিল্টার এবং আবেদন ফর্ম।
- নিয়োগকর্তার দিক: লগইন, চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেওয়া, আবেদনকারীদের তালিকা দেখা ও স্ট্যাটাস বদলানো।
- আপনার দিক: নতুন বিজ্ঞপ্তি যাচাই করে অনুমোদন দেওয়ার পেজ, যাতে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি না ঢোকে।
- সিভি: ফাইল আপলোড অথবা শুরুতে শুধু ইমেইল ও ফোন নম্বর।
প্রম্পট লিখুন
উদাহরণ হিসেবে একটি প্রম্পট:
- “ঢাকার তরুণ ফ্রিল্যান্সার ও জুনিয়র ডেভেলপারদের জন্য একটি জব বোর্ড বানাও, বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায়। হোমপেজে সার্চ বক্স, শহর ও চাকরির ধরনের ফিল্টার এবং সাম্প্রতিক চাকরির তালিকা থাকবে। প্রতিটি চাকরির আলাদা পেজে বিবরণ, বেতনের পরিসর ও আবেদন বোতাম থাকবে। প্রার্থী নাম, ফোন, ইমেইল ও সিভি আপলোড দিয়ে আবেদন করবে। নিয়োগকর্তার লগইন থাকবে, সে চাকরি দিতে ও আবেদন দেখতে পারবে। আমার অ্যাডমিন পেজে নতুন চাকরি অনুমোদনের ব্যবস্থা থাকবে। মোবাইল-ফার্স্ট ডিজাইন।”
পুরো আবেদনের ধাপ পরীক্ষা করুন
প্রিভিউতে প্রথমে নিয়োগকর্তা হয়ে একটি চাকরি দিন, তারপর প্রার্থী হয়ে সেটি খুঁজে আবেদন করুন, শেষে আবার নিয়োগকর্তা হয়ে আবেদনটি দেখুন। ফোনের মাপে সার্চ ও ফিল্টার ঠিকমতো কাজ করছে কি না দেখুন।
ভুল ইমেইল, বড় সিভি ফাইল বা ফাঁকা ফর্ম জমা দিয়ে দেখুন সাইট ভদ্রভাবে ভুল জানাচ্ছে কি না।
বিশ্বাসযোগ্যতা ও ব্যক্তিগত তথ্য
চাকরির প্রতারণা বাংলাদেশে পরিচিত সমস্যা, তাই এখানে বিশ্বাস সবচেয়ে বড় বিষয়। নিয়োগকর্তার কোম্পানির নাম ও যোগাযোগ যাচাই করে অনুমোদন দিন এবং “আবেদনের জন্য টাকা চাইলে আমাদের জানান” জাতীয় একটি সতর্কবার্তা রাখুন।
প্রার্থীর সিভি ও ফোন নম্বর সংবেদনশীল তথ্য। শুধু সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা যেন দেখতে পান, সেটা নিশ্চিত করুন এবং একটি প্রাইভেসি পলিসি রাখুন।
পাবলিশ ও প্রথম চাকরি জোগাড়
পাবলিশ করে ডোমেইন যুক্ত করুন। শুরুতে খালি বোর্ড কেউ বিশ্বাস করে না, তাই আগে ১০-২০টি আসল চাকরি নিজে জোগাড় করে তুলুন, পরিচিত কোম্পানি বা কমিউনিটি থেকে। ফেসবুক গ্রুপ ও লিংকডইনে বিজ্ঞপ্তির লিংক ছড়ান।
পরে যোগ করতে পারেন চাকরির অ্যালার্ট ইমেইল, কোম্পানির প্রোফাইল পেজ ও সেভ করা চাকরির তালিকা।