চা, মসলা, প্রসাধনী, শিশুদের খেলনা, বই বা স্ন্যাকসের মতো পণ্যের বক্স প্রতি মাসে ক্রেতার দরজায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবসা ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। এতে নিয়মিত আয়ের সুবিধা আছে।
তবে প্রতি মাসে বক্স বানানো, পাঠানো ও টাকা নেওয়া একটি পুনরাবৃত্ত কাজ, তাই শুরুতেই কাঠামো ঠিক করা দরকার।
সাবস্ক্রিপশন বক্সে ক্রেতা নিয়মিত একটি নির্বাচিত পণ্যের বাক্স পান। ছোট করে শুরু করুন, মাসিক খরচ ও মার্জিন হিসাব করুন, একটি পরিষ্কার প্ল্যান দিন এবং বাতিলের পথ সহজ রাখুন।
ধারণা ও দর্শক বেছে নিন
সবার জন্য একটি বক্স নয়, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট বিষয় ভাবুন। যেমন শিক্ষার্থীদের স্টেশনারি, কর্মজীবীদের স্বাস্থ্যকর নাস্তা বা নতুন মায়েদের যত্নের জিনিস। নির্দিষ্ট দর্শক থাকলে পণ্য বাছাই ও বিপণন দুটোই সহজ হয়।
খরচ ও মার্জিন হিসাব
প্রতিটি বক্সের পণ্য, প্যাকেজিং, কুরিয়ার, পেমেন্ট ফি ও বিপণনের খরচ যোগ করে দেখুন লাভ কত থাকে। কোনো সংখ্যা অনুমানে ধরবেন না, সরবরাহকারী ও কুরিয়ারের আসল দর নিন।
ক্রেতা কিছুদিন পরে ছেড়ে যান, এটি স্বাভাবিক। তাই নতুন ক্রেতা পেতে যা খরচ হয় তা কয়েক মাসের লাভে উঠে আসছে কি না ভেবে দেখুন।
- পণ্য ও প্যাকেজিংয়ের খরচ।
- কুরিয়ার ও ফেরত অর্ডারের খরচ।
- পেমেন্ট গেটওয়ের ফি।
- বিজ্ঞাপন ও নতুন ক্রেতা আনার খরচ।
প্ল্যান ও পেমেন্ট
মাসিক, তিন মাসের ও বার্ষিক এই ধরনের কয়েকটি প্ল্যান দিন। বাংলাদেশে স্বয়ংক্রিয় কাটা সবসময় সম্ভব নয়, তাই মেয়াদ শেষের আগে বিকাশ বা কার্ডের পেমেন্ট লিংক পাঠানোর ব্যবস্থা রাখুন। প্রতি মাসে বাক্স পাঠানোর একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করুন।
- প্রতিটি প্ল্যানে কত পণ্য ও কত দামের মূল্য, তা স্পষ্ট।
- প্রথম বক্স কবে যাবে ও পরবর্তী কবে।
- যেকোনো সময় বিরতি বা বাতিলের সহজ লিংক।
ক্রেতাকে ধরে রাখুন
বক্সে ছোট একটি চিঠি বা অপ্রত্যাশিত উপহার রাখলে ক্রেতা বিশেষ মনে করেন। প্রতি মাসে ফিডব্যাক চান এবং পরের বক্সে তা কাজে লাগান। ক্রেতার ছবি শেয়ার করার সুযোগ দিলে নতুন ক্রেতাও আসে।