অনলাইনে টাকা নেওয়া মানে ক্রেতার আস্থা পাওয়া। একবার তথ্য ফাঁস হলে বা প্রতারণার অভিযোগ উঠলে ছোট ব্যবসার সুনাম ফিরে পাওয়া কঠিন। PCI DSS কার্ড তথ্য সুরক্ষার আন্তর্জাতিক মান, আর ছোট সাইটের জন্য এর মূল কথা সহজ।
এই লেখায় জানবেন কী করলে আপনার ঝুঁকি সত্যিই কমে এবং কোথায় কেবল নির্দেশনা মানাই যথেষ্ট। নিজের ব্যবসার আইনি বাধ্যবাধকতা জানতে গেটওয়ে ও ব্যাংকের নির্দেশনা দেখে নিন।
হোস্টেড চেকআউট ব্যবহার করুন, কার্ডের তথ্য নিজের সার্ভারে রাখবেন না, HTTPS বাধ্যতামূলক করুন এবং অ্যাডমিন অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখুন। এই চারটি কাজ ছোট সাইটের বেশিরভাগ ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
কার্ডের তথ্য নিজে ছোঁবেন না
সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হলো কার্ডের নম্বর আপনার সার্ভারে আসবে কি না। SSLCommerz বা অন্য গেটওয়ের হোস্টেড পেজ ব্যবহার করলে ক্রেতা সরাসরি গেটওয়ের নিরাপদ পেজে তথ্য দেন, আর আপনার দায়িত্ব অনেক কমে যায়।
- কার্ডের নম্বর, সিভিভি বা পিন কখনো নিজের ডাটাবেসে, লগে বা ইমেইলে রাখবেন না।
- নিজের বানানো পেমেন্ট ফর্মে কার্ডের ঘর রাখবেন না।
- গেটওয়ে থেকে শুধু লেনদেন আইডি ও অবস্থা সংরক্ষণ করুন।
সাইট ও সার্ভার সুরক্ষিত রাখুন
পুরো সাইট HTTPS-এ চালান এবং HTTP থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে HTTPS-এ পাঠান। ফ্রেমওয়ার্ক ও প্লাগইন নিয়মিত আপডেট রাখুন, কারণ পুরোনো সংস্করণের দুর্বলতাই আক্রমণের বড় পথ।
গোপন কী ও পাসওয়ার্ড কোডে না রেখে এনভায়রনমেন্ট ভ্যারিয়েবলে রাখুন, এবং কখনো পাবলিক রিপোজিটরিতে তুলবেন না।
অ্যাডমিন অ্যাকাউন্টের সুরক্ষা
অনেক ফাঁস ঘটে দুর্বল বা পুনর্ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড থেকে। অ্যাডমিন ও গেটওয়ে ড্যাশবোর্ডে শক্ত পাসওয়ার্ড এবং সম্ভব হলে দুই ধাপের যাচাই চালু করুন।
- প্রত্যেক কর্মীর জন্য আলাদা লগইন, পাসওয়ার্ড শেয়ার নয়।
- কেউ কাজ ছাড়লে সাথে সাথে তার অ্যাক্সেস বন্ধ করুন।
- গেটওয়ে ড্যাশবোর্ডে রিফান্ডের ক্ষমতা শুধু বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিকে দিন।
প্রতারণা চেনা ও প্রতিরোধ
অস্বাভাবিক অর্ডার, যেমন একই ঠিকানায় অনেক কার্ড বা অল্প সময়ে একাধিক ব্যর্থ চেষ্টা, নজরে রাখুন। বেশি অঙ্কের অর্ডারে ফোন করে নিশ্চিত হওয়া সহজ ও কার্যকর উপায়।
গেটওয়ের নিজস্ব প্রতারণা শনাক্তকরণ সুবিধা থাকলে তা চালু করুন এবং শর্ত প্রদানকারীর সাইটে দেখে নিন।